Margarita20160823104524

বাংলাদেশে আসছেন সোনা জয়ী মার্গারিতা!

রিও অলিম্পিকের রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সের একক অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টের সোনার পদক জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাশিয়ান কন্যা  জিমন্যাস্ট মার্গারিটা মামুন বাংলাদেশে আসবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি লেখেন, `ইউরোপিয়ান চ্যম্পিায়নশিপ জেতার ২ দিন পরে গতবছর এইসময়ে তাদের সম্মানে নৈশ্যভোজের আয়োজন করেছিলাম মস্কোর অদূরে। মামুন ভাই কথা দিয়েছেন অলিম্পিকের পরে মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন। তখন “বাংলার বাঘীনি”র জন্য ফুলের তোড়াটা নিশ্চয় আরও অনেক বড় হবে।`

Margarita

উল্লেখ্য, ২০ বছর বয়সি মার্গারিটা বাবার সূত্রে বাংলাদেশি। তার বাবা রাজশাহীর ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন পেশায় একজন প্রকৌশলী। ১৯৮৩ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) যাওয়ার পর সেখানেই বিয়ে করে স্থায়ী হন। মার্গারিটার মা আনা রাশিয়ার প্রাক্তন রিদমিক জিমন্যাস্ট। মার্গারিটার জন্মও রাশিয়াতেই।

Read More...

bolt20160824111239

ট্রেবলের হ্যাটট্রিক করেই বিদায় নিলেন বোল্ট

তিনি গ্রেটেস্ট অলিম্পিয়ান। এটা আগে থেকেই প্রমাণিত। তবুও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে প্রমাণ করার বাকি ছিল। সামনে চ্যালেঞ্জও ছিলো অনেক। বিশেষ করে মার্কিন দৌড়বিদ জাস্টিন গ্যাটলিন যেভাবে একের পর এক হুঙ্কার ছাড়ছিল এবং যেভাবে তিনি ইনজুরিতে পড়ছিলেন, তাতে শঙ্কার কালো মেঘ জমেছিল ভক্তদের আকাশে।

কিন্তু তার নাম যে উসাইন বোল্ট। নামেই যার পরিচয়, বজ্রমানব। সেই বজ্রের হুঙ্কার ধ্বনিত হলো রিও ডি জেনিরো অলিম্পিকেও। এখানে এসেও অলিম্পিকের সেরা তিন ইভেন্ট, স্প্রিন্টের ১০০, ২০০ মিটার ও ১০০ মিটার রিলেতে সোনা জিতে নিলেন বোল্ট। ১০০, ২০০ মিটারের পর শেষ পর্যন্ত ১০০ মিটার রিলের সোনার পদকটাও উঠে গেলো তার গলায়। অবশেষে উসাইন বোল্ট এখন শুধু গ্রেট নয়, গ্রেটেস্ট।

বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ১০০ মিটার রিলের (দলগত লড়াই) সোনার দৌড়ে অংশ নেন বোল্ট এবং তার বাকি তিন সতীর্থ আসাফা পাওয়েল, ইয়োহান ব্লেক এবং নিকেল অ্যাশমেয়াদে। ৩৭.২৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনার দৌড় শেষ করেন এই চারজন।

Bolt

এই ইভেন্টে বোল্টদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র; কিন্তু দলটি আসল দৌড় শুরু করার আগেই হয়ে গেলো ডিসকোয়ালিফাইড। সুতরাং, বোল্ট-ব্লেকদের জ্যামাইকার জন্য যেমন লড়াইটা আরও উন্মুক্ত হলো, তেমনি অন্য দেশের অ্যাথলেটরাও সুযোগ পেলো সামনে চলে আসার।

এ সুযোগে সবাইকে অবাক করে দিয়ে কিন্তু রৌপ্য পদকটা নিজেদের গলায় তুলে নিলো জাপানের চার দৌড়বিদ। রয়াতা ইয়াগামাতা, সোতা লিজুকা, ইউসিহিদে কিরিউ, আসুকা ক্যামব্রিজ- এ চার দৌড়বিদ সময় নিলেন ৩৭.৬০ সেকেন্ড।

দৌড় শেষ করার মিনিট খানেক পর যুক্তরাষ্ট্রকে ডিসকোয়ালিফায়েড ঘোষণা করা হয়। জাপানের পরে থেকে দৌড় শেষ করে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের কথা থাকলেও ডিস কোয়ালিফায়েড হওয়ার কারণে পদকটা চলে গেলো কানাডার চার দৌড়বিদ আকিম হেইনেস, অ্যারোন ব্রাউন, ব্রেন্ডন রডনি, আন্দ্রে ডি গ্রাসের কাছে। তারা সময় নেন ৩৭.৬৪ সেকেন্ড।

অলিম্পিকের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ৯টি সোনা- চাট্টিখানি কথা নয়। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক থেকে শুরু বোল্টের। ১০০, ২০০ মিটার স্প্রিন্টের সঙ্গে দলগত লড়াই ১০০ মিটার রিলেতেও টানা সোনা জিতে আসছেন তিনি। এবার সেই জয়ের ষোলকলা পূর্ণ করেই দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ অলিম্পিককে বিদায় জানালেন গ্রেটেস্ট অলিম্পিয়ান উসাইন বোল্ট।

rio-rita-bg20160821103657_7537

অলিম্পিকে ‘বাংলার বাঘিনী’র স্বর্ণ জয়

রিও অলিম্পিকে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে একক অল অ্যারাউন্ড ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত রুশ জিমন্যাস্ট মার্গারিতা মামুন বা বাংলার বাঘিনী। অসাধারণ শারীরিক কলাকৌশল প্রদর্শন করে সেরা হন তিনি।

তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্বদেশি ইয়ানাকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ ৭৬.৪৮৩ স্কোর করে সেরা হন মামুন। তার এই সাফল্যে রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সে দীর্ঘদিন আধিপত্য ধরে রাখা রাশিয়া এই ইভেন্টে টানা পঞ্চমবার স্বর্ণ জিতল।

‘বাংলার বাঘিনী’ খ্যাত রিটার বাবা বাংলাদেশি। রিটার বাবা আবদুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহীর সন্তান তিনি। মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। মা রাশিয়ান, আন্না। তারা এখন সপরিবারে রাশিয়াতেই থাকেন। তার মা সাবেক রিদমিক জিমন্যাস্ট, তার হাত ধরেই এই খেলায় হাতেখড়ি রিটার। পরে সেখান থেকে এ বছর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন তিনি।

এদিন ফাইনালে প্রতিযোগিতার হুপ ও বলের রুটিন শেষে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষেই ছিলেন তিন বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্বদেশি ইয়ানা কুদ্রিয়াভৎসেভা । কিন্তু ক্লাব-পারফরম্যান্সের শেষ মুহূর্তে ভুল করে বসেন। ক্লাব উপরে ছুড়ে ফ্লোরে গড়িয়ে ধরতে পারনি। বাড়িয়ে থাকা হাতকে ফাঁকি দিয়ে তা পড়ে যায় ফ্লোরে। এতে অনেকটাই এগিয়ে যান মামুন।

সর্বমোট ৭৬.৪৮৩ স্কোর করে সেরা হন মামুন। শেষ পর্যন্ত ৭৫.৬০৮ স্কোর করে রুপা জেতেন ইয়ানা। ইউক্রেইনের গানা রিজাতদিনোভা পেয়েছেন ব্রোঞ্জ।

এর আগে গত কয়েক বছরে এই অঙ্গনে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন মামুন। এর মধ্যে জিতেছেন রাশিয়ার রিদমিক জিমন্যাস্ট দলের প্রধান কোচের মনও। আর তাই তো সে কোচ রিটার নাম দিয়েছেন ‘দ্য বেঙ্গল টাইগ্রেস’ বা ‘বাংলার বাঘিনী’।তার এই বিশেষ নামটি আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়, সঙ্গে উইকিপিডিয়াতেও।

রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন রিটা। ২০১৬ বাকু বিশ্বকাপে চারটি ইভেন্টে মোট ৭৭.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। বাংলাদেশের হয়েই গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মাতানোর কথা ছিল তার। কিন্তু নানা জটিলতায় সেটি আর সম্ভব হয়নি, তবে অদম্য এই নারী ঠিকই অলিম্পিক মাতাচ্ছেন।

c1dcefa099f90a-660x330

ভুল শুধরে এগিয়ে যেতে চান বাকী

বাংলাদেশের পদক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটা যেনেও বাংলাদেশের সাত প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন রিও অলিম্পিক গেমসে। বরাবরের মত এবার অভিজ্ঞা অর্জনই যেখানে প্রধান, সেখানে সামান্য ভালোর করার আশা ছিল শ্যূটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও গলফকার সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে। প্রথম জন ব্যর্থ হয়েছেন। পারেননি নিজের সেরা টাইমিংটাও করতে। গত মঙ্গলবার রিও অলিম্পিক শ্যূাটিং সেন্টারে ব্যক্তিগত ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নেন বাকী। ৬২১.২ স্কোর করে ৫০ প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন ২৫তম। তার সেরা টাইমিং ৬২৪.৭।

 
১০ মিটার এয়ার রাইফেলে একজন শ্যুটার দাঁড়িয়ে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ১০টি করে একটি সিরিজের মোট ছয়টি সিরিজ (৬০টি গুলি) গুলি ছুঁড়তে পারেন। আব্দুল্লাহ হেল বাকী তার প্রথম সিরিজে ১০৩.৮, দ্বিতীয়টি ১০৪.০, তৃতীয়টি ১০৫.৪, চতুর্থটিতে ১০৩.৬, পঞ্চমটিতে ১০০.৬ এবং ষষ্ঠ ও সর্বশেষটিতে ১০৩.৮ স্কোর করেন।
সান্তÍনা তিনি কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী ভারতীয় শ্যুটার গগন নারাংয়ের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়েছেন। গগনও ছিলেন বাকীর কাতারে। অবশ্য শুরুটা ভালোই ছিল। প্রায় ঘণ্টাখানিক টানা টিগারে আঙ্গুল চেপে হঠাৎই মনোযোগ যেন হারিয়ে বসেন আব্দুল্লাহ হেল বাকী। আর তাতেই সবশেষ। উৎসাহ দিকে শ্যূটিং সেন্টারে এসেছিলেন  নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।  কোয়ালিফিকেশন থেকে বিদায় হওয়ায় চোখেমুখে রাজ্যের হতাশা বাকী। ৬২১.২ স্কোর করে বাছাইয়ে ৫০ জনের মধ্যে ২৫তম হওয়ায় রিও অলিম্পিকই শেষ হয়ে গেল প্রথম দিনেই। তাই হতাশায় ভুগছেন তিনি, -‘আমি হতাশ। ভাবিনি এতটা খারাপ হবে। আগের দিনও প্র্যাকটিসেও ৬২৬-৬২৭ স্কোর করেছিলাম। কিন্তু আজ হলো না।

 

 
কোয়ালিফাই না করতে পারার পাশাপাশি নিজের সেরা টাইমিং (৬২৪.৮) ছুঁতে না পারাটাও নিরাশ করেছে তাকে। বললেন, পদক নিয়ে ভাবেনি। চিন্তা ছিল কিভাবে নিজের সেরা টাইমিংটা করা যায়। আমার সব মনোযোগ ছিল  এটাই। এটা অলিম্পিক নাকি অন্য কোনো প্রতিযোগিতা তাও ভাবিনি।’
নিজের সেরা স্কোর দিয়েও অবশ্য পদকের লড়াইয়ে নামা হতো না বাকীর। শীর্ষ যে আটজন পৌঁছেছেন চূড়ান্ত লড়াইয়ে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম স্কোরটাও ৬২৫.৫। গত অলিম্পিকের চ্যাম্পিয়ন ভারতের অভিনব বিন্দ্রা সপ্তম হয়েছেন ৬২৫.৭ স্কোর করে। শীর্ষে থেকে মূল আসরে গেছেন ইতালির নিকোলো ক্যাম্প্রিয়ানি। কোচ ক্রিস্টিয়েনসেন শিষ্য বাকী চেয়েছিলেন চাপমুক্ত থাকার। শুরুত শীর্ষ পাঁচে ঘোরাঘুরি করা বাকীকে পিছিয়ে গেলেন শেষ পর্যন্ত সেই চাপেই। জানালেন, ‘মনঃসংযোগের অভাব নাকি অন্য কিছু, আমি আসলে বলতে পারব না কেন এমনটা হলো। প্রথম ৫০ মিনিট পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই হচ্ছিল। আমি ইনজয়ও করছিলাম। কিন্তু কিছু ভুল হয়েছে এরপরই।’ সাথে যোগ করলেন, আগামীতে এই ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই।

 

 
আগামী কিছুদিন কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্ট নেই বাকীর। তাই লম্বা সময় পাবেন নিজেকে ঝালিয়ে নিতে। আরচ্যার শ্যামলী রায়ের মত তিনিও অভিযোগ করলেন রিওতে এসে পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে না পারর। নানান অসংহতির কথা জানালেন বাংলাদেশ শ্যূটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। বললেন, রিও অলিম্পিকের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। শ্যামলীর পর বাকীর অভিযোগ। কিন্তু সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বাংলাদেশ থাকা রিওতে আসা কর্মকর্তাদের ততটা তৎপরতা দেখা যায়নি।

 
মূল মিডিয়া সেন্টার থেকে ৪৪ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ঘেরা দেওদোর শ্যুটিং সেন্টাওে বিশ্বকাপ উপলক্ষে মাস কয়েক আগে ঘুরে গিয়েছিলেন বাকী। চেনা রেঞ্জও কেন হলো না টার্গেট পুরন? জানতে চাইলে বললেন, ‘একবার দেখে গিয়েছি। তবে চীন-কোরিয়ার অনেক নামিদামি শ্যুটাররা দিন বিশেক আগে এখানে এসেছে। আরো আগে এখানে আসতে পারলে হয়তো ভালো হতো।’
দুর্বলতা রয়েছে আমাদের ফেডারেশনের সামর্থ্যওে। শ্যূটিং ফেডারেশন বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েছে বেশি দিন হয়নি। বাংলাদেশের অন্য ক্রীড়াবিদদের মতো তাই বাকীরও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি হয়নি। তাই বাকীর অনুরোধ ফেডারেশনের কাছে,-‘ফেডারেশন আমার জন্য অনেক করেছে। আমার অনুরোধ থাকবে অলিম্পিকের পরও যেন এই সহায়তা অব্যাহত থাকে। নিয়মিত যেন বিশ্বমানের টুর্নামেন্টগুলোয় অংশগ্রহণের সুযোগ পাই।’ বাকী আশ্বস্ত করেছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। বলেছেন, তিনি চেষ্টা করবেন বাকী সহ অন্য শ্যূটারদের সুগোযাসুবিধা নিশ্চিত করার।

20160713053204-548x330

ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী গলফার সিদ্দিক

চলতি রিও অলিম্পিক গেমসে ২০৬টি দেশ অংশগ্রহণ নিচ্ছে। যার মধ্যে ৮২ টি দেশ আছে যার এখনো একাধিকবার অলিম্পিকে অংশ নিয়ে কোনও পদক পায়নি। বাংলাদেশও রয়েছে এ দেশের তালিকায়। তবে অলিম্পিকে রয়েছে বাংলাদেশের অনভিপ্রেত একটি রেকর্ড। আর তা হলো হলো কোনও পদক না জেতা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এবার বাংলাদেশের ৭ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন রিও অলিম্পিকে। ১৯৮৪ অলিম্পিক থেকে অংশ নেয় বাংলাদেশের পদক গড়া এবারও কাটার সম্ভাবনা ক্ষীন। শ্যূটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ৮ আগস্ট তার ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নিয়ে ৫০ জনে ২৫তম হয়ে বিশ্বের সেরা ক্রীড়া আসর থেকে বিদায় নিয়েছেন। অ্যারচার শ্যামলী রায়ের সম্ভাবনা নেই। ৬৪ প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি হয়েছেন ৫৩ তম। অংশ নিচ্ছেন দুই সাতারু ও এ্যাথলেট। আশাবাদী হওয়ার মত কোন কথা তারও বলতে পারছেন না। ‘অলিম্পিকে অংশ নেয়ায় বড় কথা’- সেটাই মেনে ওয়ালকার্ডের বদলে রিও অলিম্পিকে তারাও অংশগ্রহনকারী। আশাবাদী হওয়ার জায়গা সত্যিকার অর্থে রয়েছে এক জায়গায়- তিনি দেশ সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। তার মানে তিনি কি পদক গড়া মিটাবেন। সম্ভাবনা নেই সেখানেও। তবে তিনি ভালো করে অন্তত একটা মর্যাদাপূর্ন জায়গায় থাকতে পারবেন। এমনটা বিশ্বাস করেন সিদ্দিক নিজেও। রিওতে আসার পর টানা চারদিন অনুশীলন করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, বিশ্বমানের  গলফ গ্রাউন্ডে অনুশীলন করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ঠ। নিজের প্রস্তুতি নিয়েও বেশ আশাবাদী-মঙ্গলবার দুপুরে অনুশীলন শেষে জানালেন দেশের সেরা এই গলফার। অলিম্পিক গলফ কোর্সের মনোরম পরিবেশও তার খুব মনে ধরেছে।

c1dcefa099f90a

২৫তম হলেন বাকি

দেশের মানুষের আশা ভরসা শেষ হয়েগেল। রিও অলিম্পিকে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শ্যুটিং ইভেন্টে ৬২১.২ পয়েন্ট তুলে ২৫তম হলেন বাংলাদেশি শ্যুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি। বাকিকে নিয়ে আশার প্রদিপ জালছিল বাংলাদেশের জনগন তা আর বেশিদুর এগুলো না। কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী ভারতীয় শ্যুটার গগন নারাংয়ের সঙ্গে রৌপ্য পদক পাওয়া বাকি সমানতালে পাল্লা দিয়ে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শ্যুটিং ইভেন্টে ৬২১.২ পয়েন্ট তলেন। ভারতীয় তারকা গগন নারাং অর্জন করেছেন ৬২১.৭ পয়েন্ট। ৫০ জনের মধ্যে বাকির অবস্থান ২৫তম।

এখান থেকে শীর্ষ ৮ শ্যুটার পদকের জন্য লড়বেন। প্রাথমিক পর্বে অলিম্পিক রেকর্ড গড়ে প্রথম হয়েছেন ইতালির নিকোলা কাম্প্রিয়ানি। তার স্কোর ৬৩০.২। অষ্টম স্থান নিয়ে পদকের দৌড়ে টিকে আছেন বেলারুশের ইলিয়া চারিখা। তার অর্জন ৬২৫.৫ পয়েন্ট। যার অর্থ আর ৪টি পয়েন্ট অর্জন করতে পারলে বাকি পদকের জন্য লড়তে পারতেন। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে একজন শ্যুটার দাঁড়িয়ে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ১০টি করে একটি সিরিজের মোট ছয়টি সিরিজ (৬০টি গুলি) শ্যুটিং করতে পারেন। আব্দুল্লাহ হেল বাকি তার প্রথম সিরিজে ১০৩.৮, দ্বিতীয়টি ১০৪.০, তৃতীয়টি ১০৫.৪, চতুর্থটিতে ১০৩.৬, পঞ্চমটিতে ১০০.৬ এবং ষষ্ঠ ও সর্বশেষটিতে ১০৩.৮ স্কোর করেন।
এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ফাইনালে উঠেছেন অভিনব ব্রিন্দ্রা। ভারতীয় এই শ্যুটার ৬২৫.৭ স্কোর করে সপ্তম হয়েছেন।

BSPA

রণজিৎ বিশ্বাসের অভাব সহজে পূরণীয় নয়

সদ্য প্রয়াত সাবেক সিনিয়র সচিব, নন্দিত ক্রীড়া ও রম্য লেখক ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাসকে স্মরণ করলো বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি (বিএসপিএ)। গতকাল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে স্মরণ সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান উজ জামান রাজীবের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন- মোস্তফা মামুন। রণজিৎ কুমার বিশ্বাসকে ‘ক্রিকেটের চলমান উইজডেন’ আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, প্রচার বিমুখতার কারণেই রণজিৎ বিশ্বাস তাঁর প্রাপ্য সম্মান পাননি। তাঁর অকালে চলে যাওয়ার কারণে দেশের ক্রীড়া লেখনীতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সভায় রণজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী শেলী সেনগুপ্তা, এক মাত্র মেয়ে উপমা বিশ্বাস মুক্তা, মেয়ের জামাই অনিরুদ্ধসহ ঘনিষ্ঠজন ও সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বেদনাভরা কণ্ঠে রণজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী শেলী সেনগুপ্তা বলেন, রণজিৎ একটু আগে চলে গেলেও অনেক স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। কবি সানাউল হক খান বলেন, রণজিৎ তার কথাবার্তায় কিছু বিদেশি শব্দও বলতেন, যা রীতিমতো বাংলা হয়ে যেতো। ক্রীড়ালেখক জালাল আহমেদ চৌধুরী মনে করেন সুরুচি, শুদ্ধাচারও সৃষ্টিশীলতার অদ্ভুত মিশেল ছিলেন রণজিৎ বিশ্বাস। কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মোহিত উল আলম জানান, অপচয় না করার অভ্যেসটা রণজিৎ তার বাবা সাহিত্যিক মাহবুব উল আলমের কাছে পেয়েছিলেন। বন্ধু শাহাবুদ্দিন নাগরী বলেন, রেডিওতে ক্রিকেটের ধারা বিবরণী রণজিৎ মিস করতে চাইতেন না। আর বাল্যবন্ধু নুরুচ্ছাফা চৌধুরী জানান, মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে রচনা লিখে রণজিৎ পুরো পূর্ব-পাকিস্তানে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। আবেগ ঘন এই স্মরণ সভায় আরও স্মৃতিচারণ করেন বিএসপিএ’র সাবেক সভাপতি আবদুল তৌহিদ, ইকরামুজ্জামান, প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, এএসএম রকিবুল হাসান, দিলু খন্দকার, উৎপল শুভ্র, পারভেজ আলম চৌধুরী, সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ, রণজিতের জামাতা অনিরুদ্ধ ভদ্র ও মেয়ে উপমা বিশ্বাস মুক্তা। ২৩ জুন রণজিৎ বিশ্বাস ইহকাল ত্যাগ করেন।
KTM_1935
প্রসঙ্গত: ১৯৫৬ সালের ১লা মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। ১৯৮১ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন রণজিৎ। ২০১১ সালের ১০ই অক্টোবর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে গত বছরের ২৭শে এপ্রিল অবসরে যাওয়ার দুইদিন আগে রণজিৎ বিশ্বাস সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। গত ৩০শে এপ্রিল তিনি অবসরোত্তর (পিআরএল) ছুটিতে যান। ক্রিকেট নিয়ে তার লেখা ছিল বেশ জনপ্রিয়। তার কয়েকটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে- ‘কুড়িয়ে পাওয়া সংলাপ’, ‘মানুষ ও মুক্তিযুদ্ধের সংলাপ’, ‘শুদ্ধ বলা শুদ্ধ লেখা’, ‘হৃদয়ের ক্ষরণকথা’ উল্লেখযোগ্য।