BSPA

বিএসপির বার্ষিক সাধারণ সভা ১৭ ডিসেম্বর

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির ২০১৬ সালের সাধারণ সভা ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬, শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরানা ভবনের নিচতলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠান: বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৬
তারিখ: ১৭ ডিসেম্বর, শনিবার
সময়: সকাল ১০টা
ভেন্যু: জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (পুরনো ভবন) সম্মেলন কক্ষ (নিচতলা)
পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

সাধারণ সভায় যথা সময়ে আপনার উপস্থিতি একান্ত কাম্য।

সাধারণ সভার সূচী :
১. রেজিস্ট্রেশন : সকাল ৯.৩০ মিনিট
২. পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত
৩. শোক প্রস্তাব পাঠ ও অনুমোদন
৪. ২০১৫ সালের বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী পাঠ ও অনুমোদন
৫. সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন
৬. অর্থ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন
৭. সাংগঠনিক সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন
৮. শাখা সমিতির কার্যক্রম আলোচনা
৯. রিপোর্ট সমূহের উপর আলোচনা ও অনুমোদন
১০. মুক্ত আলোচনা
১১. বিবিধ
১২. মধ্যাহ্ন ভোজ

চাঁদা পরিশোধের শেষ সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০১৬

তারিখ: ১৫-১১-২০১৬

Read More...

dbl-bspa-closing-2

স্পোর্টসম্যান অব বিএসপিএ ২০১৬ কবিরুল ইসলাম


ডিবিএল-বিএসপিএ ক্রীড়া উৎসব

জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হলো ডিবিএল-বিএসপিএ ক্রীড়া উৎসব। মঙ্গলবার ক্যাপ্টেন মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস।

দাবা, ক্যারম, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, শ্যুটিং ও আর্চ্যারি এই ছয় ডিসিপ্লিনে পাঁচদিনব্যপি ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

সব খেলার সেরাদের মধ্য থেকে রেটিং-এর ভিত্তিতে স্পোর্টস ম্যান অব বিএসপিএ ২০১৬ হয়েছেন কবিরুল ইসলাম। তার হাতে ট্রফি, ডামি চেক ও প্রাইজমানি তুলে দেন প্রধান অতিথি অশোক কুমার বিশ্বাস।

দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মোরসালিন আহমেদ ও রানারআপ হয়েছেন আশরাফুর রহমান মুরাদ। ব্যাডমিন্টন এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জাহিদ মুনীর কল্লোল ও রানারআপ হয়েছেন ফয়সাল তিতুমীর। ব্যাডমিন্টন দ্বৈতে বোরহানউদ্দিন-আরাফাত দাড়িয়া জুটি চ্যাম্পিয়ন ও মোস্তাক আহমেদ খান-কামরুজ্জামান হিরু জুটি রানার্সআপ হয়েছেন। টেবিল টেনিস এককে রুমেল খান চ্যাম্পিয়ন ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিন রানারআপ হয়েছেন। দ্বৈতে রুমেল খান-মাহমুদুন্নবী চঞ্চল জুটি চ্যাম্পিয়ন ও সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ-মোহাম্মদ জুবায়ের জুটি রানার্সআপ হয়েছেন। ক্যারম এককে কবিরুল ইসলাম চ্যাম্পিয়ন আরিফ সোহেল রানারআপ হয়েছেন। দ্বৈতে এসবি চৌধুরী শিশির-মজিবুর রহমান জুটি চ্যাম্পিয়ন, বোরহানউদ্দিন-আরাফাত দাড়িয়া জুটি রানার্সআপ হয়েছেন। শ্যূটিং-এ কবিরুল ইসলাম চ্যাম্পিয়ন ও মোয়াজ্জেম হোসেন রোকন রানারআপ হয়েছেন। আরচ্যারিতে অলক হাসান চ্যাম্পিয়ন ও জাহিদ মুনীর কল্লোল রানারআপ হয়েছেন।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি জনাব মোস্তফা মামুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান উজ জামান রাজিব। উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সাব কমিটির চেয়ারম্যান এসবি চৌধুরী শিশির ও সচিব মাহবুব সরকার।

 

image001

ডিবিএল-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল শুক্রবার উদ্বোধন

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সম্মানিত সদস্যদের জন্য, ১১-১৫ নভেম্বর ‘ডিবিএল- বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০১৬’ আয়োজন করা হয়েছে। কার্নিভালে দাবা, শুটিং, আরচ্যারি, টেবিল টেনিস (একক ও দ্বৈত), ব্যাডমিন্টন (একক ও দ্বৈত) এবং ক্যারম (একক ও দ্বৈত) খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

স্পোর্টস কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ১১ নভেম্বর, শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায়। সমিতি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সমিতির সভাপতি জনাব মোস্তফা মামুন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সমিতির সদস্যদের উপস্থিত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠান: ডিবিএল-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্ণিভাল উদ্বোধন
তারিখ: ১১ নভেম্বর, শুক্রবার
সময়: সকাল ১০.৩০ মিনিট
ভেন্যু: বিএসপিএ কার্যালয়, রুম নং-১৪-১৫, দোতলা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ঢাকা

আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

ধন্যবাদান্তে

রেজওয়ান উজ জামান রাজিব
সাধারণ সম্পাদক

1254

হ্যান্ডবল রিপোর্টিং কর্মশালা সমাপ্ত

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির আয়োজনে বুধবার হ্যান্ডবল রিপোর্টিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হলো। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ডাচ-বাংলা অডিটরিয়ামে এই আয়োজনে ক্রীড়া সাংবাদিক ও ক্রীড়ালেখরা অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ব্লেজার বিডি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদ্জ্জুামান কোহিনূর। উপস্থিত ছিলেন অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল। রিপোর্টিং কর্মশালা পরিচালনা করেন কামরুল ইসলাম কিরণ ও নাসিরউল্লাহ লাভলু।

৯ অক্টোবর থেকে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আইএইচএফ কাপকে সামনে রেখে এই কোর্স আয়োজন করা হয়। যেখানে হ্যান্ডবলের বিভিন্ন নিয়ম, খেলার মাঠের সাইজ, কৌশল ও বিভিন্ন টার্ম সম্পর্কে সাংবাদিকদের ধারণা দেয়া হয়। গত মাসে বিএসপিএ ওয়াকর্শপের অধীনে প্রথম কোর্সে হকির আইনকানুন সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।

আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

রেজওয়ান উজ জামান রাজিব
সাধারণ সম্পাদক

015125kk-22-09-16-097-p-35

বর্ষসেরার পুরস্কার পেলেন আজাদ মজুমদার

তিনজন তিন প্রজন্মের, তিন মাধ্যমের। সাংবাদিকতার জগতে মুজনেবীন তারেকের পদচারণা বছর পাঁচেকের, নোমান মোহাম্মদের অভিজ্ঞতা ১৫ বছরের আর আজাদ মজুমদার সাংবাদিকতা পেশায় আছেন ১৯৯৭ সাল থেকে। তারেকের কর্মক্ষেত্র যমুনা টিভি, নোমান কাজ করেন বাংলা দৈনিকে আর আজাদ ইংরেজি দৈনিক ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থায়। ২০১৫ সালের জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিকের পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত মনোনয়ন তালিকায় ঠাঁই পাওয়া ছাড়াও তাঁদের জীবনের আরেকটা মিল লক্ষণীয়! তাঁরা তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র। ক্রিকেটারদের সাফল্যের পেছনে যদি আঁতুড়ঘর বিকেএসপির গৌরব বাড়ে, তাহলে সাবেক এই তিন শিক্ষার্থীর হাত ধরে হয়তো প্রাচ্যের অক্সফোর্ডও খানিকটা কৃতিত্বের দাবিদার। ফুটবলে পাতানো ম্যাচের প্রতিবেদন করেছিলেন তারেক, নোমানের লেখায় উঠে এসেছিল ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ‘১৬ কোটির ১৫’ জনের বৃত্তান্ত আর আজাদ তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তি দিয়ে বছরজুড়েই জন্ম দিয়েছেন অনেক চাঞ্চল্যকর খবরের। সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত এই তিনের ভেতর থেকে চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন আজাদই, বাকি দুজনও সন্তুষ্ট সংক্ষিপ্ত তালিকায় আসতে পেরে।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের ক্রীড়া সম্পাদক আজাদ ২০১৫ বিশ্বকাপ কাভার করতে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে গিয়ে মাঠের খেলার খবরের পাশাপাশি খুঁজেছেন ক্রিকেটারদের খেলার বাইরের দুনিয়াটাও। এই নিয়ে তাঁর ‘দ্য আনটোল্ড স্টোরিজ অব ২০১৫’ ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের করা অন্যতম সেরা প্রতিবেদন। এ ছাড়া মেলবোর্নে ভারতের সঙ্গে দুর্ভাগ্যজনক হারের পর ‘মেলবোর্ন গিভস অ্যান্ড থ্রোজ ইট অ্যাওয়ে ফ্রম মাশরাফি’ লেখাটিও ধারণ করেছিল সমর্থকদের মর্মবেদনা। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বাংলাদেশ সফরে এসে অনুশীলনে ড্রোন ক্যামেরার ব্যবহার অনেকেই দেখেছেন চমক হিসেবে। আজাদ সেই চমকে না ভুলে খতিয়ে বের করেছেন, বিনা অনুমতিতে ড্রোন ওড়ানো বাংলাদেশে আইনের লঙ্ঘন। বার্তা সংস্থা এএফপির কল্যাণে খবরটি ছড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী। দীর্ঘ কর্মজীবনে সাংবাদিকসুলভ দৃঢ়তা দেখানো আজাদ তাই বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিক পুরস্কারের যোগ্য বিজয়ী।

বছরজুড়ে নোমান মোহাম্মদের লেখা কালের কণ্ঠের পাঠকরা পড়েছেন। তাঁর উপমার ব্যবহারে মুগ্ধও হয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যের পেছনের গল্পগুলো খুঁজে আনা বা আন্তরিক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন খেলার কীর্তিমানদের জীবনের গল্প তুলে আনার যে মুনশিয়ানা তিনি দেখিয়ে যাচ্ছেন, কালের কণ্ঠের ক্রীড়া বিভাগের পাঠকপ্রিয়তার পেছনে এই গুণের অবদান কম নয়। এবার প্রথম রানার-আপ হয়ে থাকা নোমান জানিয়েছেন, এই মনোনয়ন থেকেই তিনি এবং তাঁর অন্য সহকর্মীরা খুঁজে নেবেন আরো ভালো করার প্রেরণা।

তারেকের প্রতিবেদনের জের ধরে শাস্তি হয়েছে দোষীদের, একজন সাংবাদিকের এটাই বড় পাওয়া। তাই দ্বিতীয় রানার-আপ হয়েও আক্ষেপ নেই তাঁর। সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো কাজ করার প্রেরণাই ম্যাক্স-বিএসপিএ নাইট থেকে খুঁজে পেয়েছেন তারেক, প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন এ কথাই। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস সম্মাননা জানিয়েছে দুই অগ্রজ ক্রীড়ালেখক হাসান মাহমুদ বাবলী ও মুজিবুল হককে। তাঁদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন ম্যাক্স-বিএসপিএ নাইটের প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএসপিএ প্রেসিডেন্ট মোস্তফা মামুন। প্রধান অতিথির ভাষণে ওবায়দুল কাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএসপিএ ও বিজয়ীদের। সেই সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকার দিনগুলোও।

 

bolt20160824111239

ট্রেবলের হ্যাটট্রিক করেই বিদায় নিলেন বোল্ট

তিনি গ্রেটেস্ট অলিম্পিয়ান। এটা আগে থেকেই প্রমাণিত। তবুও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে প্রমাণ করার বাকি ছিল। সামনে চ্যালেঞ্জও ছিলো অনেক। বিশেষ করে মার্কিন দৌড়বিদ জাস্টিন গ্যাটলিন যেভাবে একের পর এক হুঙ্কার ছাড়ছিল এবং যেভাবে তিনি ইনজুরিতে পড়ছিলেন, তাতে শঙ্কার কালো মেঘ জমেছিল ভক্তদের আকাশে।

কিন্তু তার নাম যে উসাইন বোল্ট। নামেই যার পরিচয়, বজ্রমানব। সেই বজ্রের হুঙ্কার ধ্বনিত হলো রিও ডি জেনিরো অলিম্পিকেও। এখানে এসেও অলিম্পিকের সেরা তিন ইভেন্ট, স্প্রিন্টের ১০০, ২০০ মিটার ও ১০০ মিটার রিলেতে সোনা জিতে নিলেন বোল্ট। ১০০, ২০০ মিটারের পর শেষ পর্যন্ত ১০০ মিটার রিলের সোনার পদকটাও উঠে গেলো তার গলায়। অবশেষে উসাইন বোল্ট এখন শুধু গ্রেট নয়, গ্রেটেস্ট।

বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ১০০ মিটার রিলের (দলগত লড়াই) সোনার দৌড়ে অংশ নেন বোল্ট এবং তার বাকি তিন সতীর্থ আসাফা পাওয়েল, ইয়োহান ব্লেক এবং নিকেল অ্যাশমেয়াদে। ৩৭.২৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনার দৌড় শেষ করেন এই চারজন।

Bolt

এই ইভেন্টে বোল্টদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র; কিন্তু দলটি আসল দৌড় শুরু করার আগেই হয়ে গেলো ডিসকোয়ালিফাইড। সুতরাং, বোল্ট-ব্লেকদের জ্যামাইকার জন্য যেমন লড়াইটা আরও উন্মুক্ত হলো, তেমনি অন্য দেশের অ্যাথলেটরাও সুযোগ পেলো সামনে চলে আসার।

এ সুযোগে সবাইকে অবাক করে দিয়ে কিন্তু রৌপ্য পদকটা নিজেদের গলায় তুলে নিলো জাপানের চার দৌড়বিদ। রয়াতা ইয়াগামাতা, সোতা লিজুকা, ইউসিহিদে কিরিউ, আসুকা ক্যামব্রিজ- এ চার দৌড়বিদ সময় নিলেন ৩৭.৬০ সেকেন্ড।

দৌড় শেষ করার মিনিট খানেক পর যুক্তরাষ্ট্রকে ডিসকোয়ালিফায়েড ঘোষণা করা হয়। জাপানের পরে থেকে দৌড় শেষ করে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের কথা থাকলেও ডিস কোয়ালিফায়েড হওয়ার কারণে পদকটা চলে গেলো কানাডার চার দৌড়বিদ আকিম হেইনেস, অ্যারোন ব্রাউন, ব্রেন্ডন রডনি, আন্দ্রে ডি গ্রাসের কাছে। তারা সময় নেন ৩৭.৬৪ সেকেন্ড।

অলিম্পিকের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ৯টি সোনা- চাট্টিখানি কথা নয়। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক থেকে শুরু বোল্টের। ১০০, ২০০ মিটার স্প্রিন্টের সঙ্গে দলগত লড়াই ১০০ মিটার রিলেতেও টানা সোনা জিতে আসছেন তিনি। এবার সেই জয়ের ষোলকলা পূর্ণ করেই দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ অলিম্পিককে বিদায় জানালেন গ্রেটেস্ট অলিম্পিয়ান উসাইন বোল্ট।

c1dcefa099f90a-660x330

ভুল শুধরে এগিয়ে যেতে চান বাকী

বাংলাদেশের পদক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটা যেনেও বাংলাদেশের সাত প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন রিও অলিম্পিক গেমসে। বরাবরের মত এবার অভিজ্ঞা অর্জনই যেখানে প্রধান, সেখানে সামান্য ভালোর করার আশা ছিল শ্যূটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও গলফকার সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে। প্রথম জন ব্যর্থ হয়েছেন। পারেননি নিজের সেরা টাইমিংটাও করতে। গত মঙ্গলবার রিও অলিম্পিক শ্যূাটিং সেন্টারে ব্যক্তিগত ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নেন বাকী। ৬২১.২ স্কোর করে ৫০ প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন ২৫তম। তার সেরা টাইমিং ৬২৪.৭।

 
১০ মিটার এয়ার রাইফেলে একজন শ্যুটার দাঁড়িয়ে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ১০টি করে একটি সিরিজের মোট ছয়টি সিরিজ (৬০টি গুলি) গুলি ছুঁড়তে পারেন। আব্দুল্লাহ হেল বাকী তার প্রথম সিরিজে ১০৩.৮, দ্বিতীয়টি ১০৪.০, তৃতীয়টি ১০৫.৪, চতুর্থটিতে ১০৩.৬, পঞ্চমটিতে ১০০.৬ এবং ষষ্ঠ ও সর্বশেষটিতে ১০৩.৮ স্কোর করেন।
সান্তÍনা তিনি কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী ভারতীয় শ্যুটার গগন নারাংয়ের সঙ্গে সমানতালে পাল্লা দিয়েছেন। গগনও ছিলেন বাকীর কাতারে। অবশ্য শুরুটা ভালোই ছিল। প্রায় ঘণ্টাখানিক টানা টিগারে আঙ্গুল চেপে হঠাৎই মনোযোগ যেন হারিয়ে বসেন আব্দুল্লাহ হেল বাকী। আর তাতেই সবশেষ। উৎসাহ দিকে শ্যূটিং সেন্টারে এসেছিলেন  নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।  কোয়ালিফিকেশন থেকে বিদায় হওয়ায় চোখেমুখে রাজ্যের হতাশা বাকী। ৬২১.২ স্কোর করে বাছাইয়ে ৫০ জনের মধ্যে ২৫তম হওয়ায় রিও অলিম্পিকই শেষ হয়ে গেল প্রথম দিনেই। তাই হতাশায় ভুগছেন তিনি, -‘আমি হতাশ। ভাবিনি এতটা খারাপ হবে। আগের দিনও প্র্যাকটিসেও ৬২৬-৬২৭ স্কোর করেছিলাম। কিন্তু আজ হলো না।

 

 
কোয়ালিফাই না করতে পারার পাশাপাশি নিজের সেরা টাইমিং (৬২৪.৮) ছুঁতে না পারাটাও নিরাশ করেছে তাকে। বললেন, পদক নিয়ে ভাবেনি। চিন্তা ছিল কিভাবে নিজের সেরা টাইমিংটা করা যায়। আমার সব মনোযোগ ছিল  এটাই। এটা অলিম্পিক নাকি অন্য কোনো প্রতিযোগিতা তাও ভাবিনি।’
নিজের সেরা স্কোর দিয়েও অবশ্য পদকের লড়াইয়ে নামা হতো না বাকীর। শীর্ষ যে আটজন পৌঁছেছেন চূড়ান্ত লড়াইয়ে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম স্কোরটাও ৬২৫.৫। গত অলিম্পিকের চ্যাম্পিয়ন ভারতের অভিনব বিন্দ্রা সপ্তম হয়েছেন ৬২৫.৭ স্কোর করে। শীর্ষে থেকে মূল আসরে গেছেন ইতালির নিকোলো ক্যাম্প্রিয়ানি। কোচ ক্রিস্টিয়েনসেন শিষ্য বাকী চেয়েছিলেন চাপমুক্ত থাকার। শুরুত শীর্ষ পাঁচে ঘোরাঘুরি করা বাকীকে পিছিয়ে গেলেন শেষ পর্যন্ত সেই চাপেই। জানালেন, ‘মনঃসংযোগের অভাব নাকি অন্য কিছু, আমি আসলে বলতে পারব না কেন এমনটা হলো। প্রথম ৫০ মিনিট পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই হচ্ছিল। আমি ইনজয়ও করছিলাম। কিন্তু কিছু ভুল হয়েছে এরপরই।’ সাথে যোগ করলেন, আগামীতে এই ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই।

 

 
আগামী কিছুদিন কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্ট নেই বাকীর। তাই লম্বা সময় পাবেন নিজেকে ঝালিয়ে নিতে। আরচ্যার শ্যামলী রায়ের মত তিনিও অভিযোগ করলেন রিওতে এসে পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে না পারর। নানান অসংহতির কথা জানালেন বাংলাদেশ শ্যূটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। বললেন, রিও অলিম্পিকের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। শ্যামলীর পর বাকীর অভিযোগ। কিন্তু সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বাংলাদেশ থাকা রিওতে আসা কর্মকর্তাদের ততটা তৎপরতা দেখা যায়নি।

 
মূল মিডিয়া সেন্টার থেকে ৪৪ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ঘেরা দেওদোর শ্যুটিং সেন্টাওে বিশ্বকাপ উপলক্ষে মাস কয়েক আগে ঘুরে গিয়েছিলেন বাকী। চেনা রেঞ্জও কেন হলো না টার্গেট পুরন? জানতে চাইলে বললেন, ‘একবার দেখে গিয়েছি। তবে চীন-কোরিয়ার অনেক নামিদামি শ্যুটাররা দিন বিশেক আগে এখানে এসেছে। আরো আগে এখানে আসতে পারলে হয়তো ভালো হতো।’
দুর্বলতা রয়েছে আমাদের ফেডারেশনের সামর্থ্যওে। শ্যূটিং ফেডারেশন বিদেশি কোচ নিয়োগ দিয়েছে বেশি দিন হয়নি। বাংলাদেশের অন্য ক্রীড়াবিদদের মতো তাই বাকীরও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি হয়নি। তাই বাকীর অনুরোধ ফেডারেশনের কাছে,-‘ফেডারেশন আমার জন্য অনেক করেছে। আমার অনুরোধ থাকবে অলিম্পিকের পরও যেন এই সহায়তা অব্যাহত থাকে। নিয়মিত যেন বিশ্বমানের টুর্নামেন্টগুলোয় অংশগ্রহণের সুযোগ পাই।’ বাকী আশ্বস্ত করেছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। বলেছেন, তিনি চেষ্টা করবেন বাকী সহ অন্য শ্যূটারদের সুগোযাসুবিধা নিশ্চিত করার।

Photo Gallery

Glorious Moment

More Photos