এশিয়া কাপের দলকে সাবেকদের শুভকামনা

সাংগঠনিক দুর্বলতা ও প্রস্তুতির ঘাটতি ভুলে সবাইকে এক হয়ে দশম এশিয়া কাপে দেশের সম্মানের জন্য, বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার জন্য লড়াই করার আহবান জানিয়েছেন সাবেক খেলোয়াড়রা। বর্তমান দলের খেলোয়াড়দের হাতে অটোগ্রাফ দেয়া হকি স্টিক তুলে দেন ৮৫’র এশিয়া কাপের দলের সদস্যরা। বর্তমান দলও সেই প্রেরণা থেকে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার অঙ্গীকার করেছে।

শনিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) অডিটোরিয়ামে, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ)-এর আয়োজনে হকি স্টারস: ১৯৮৫ ও ২০১৭ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ১৯৮৫’র এশিয়া কাপের দলকে সম্মাননা জানানো হয়। একই অনুষ্ঠানে তাদের হাত ধরে শুভকামনা জানানো হয় এবারের এশিয়া কাপে অংশগ্রহনকারী দলটিকে।

৮৫’র এশিয়া কাপ দলের অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন চাকলাদার, ওসমান গনি, আলমগীর চুন্নু, কামরুল ইসলাম কিসমত, খাজা ড্যানিয়েল, জামিল পারভেজ লুলু, আব্দুল্লাহ পিরু উপস্থিত ছিলেন। দলের বাকি সদস্যদের অনেকে বিদেশে আছেন, অনেকে মারা গেছেন বা অসুস্থ। ঐ টুর্নামেন্টের সহকারী টেকনিক্যাল ডিরেক্টর শামসুল বারী, আম্পায়ার সেকান্দার হায়াত চৌধুরীকেও সম্মাননা জানানো হয়।

ছিলেন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক, সহসভাপতি খাজা রহমতউল্লাহ, সাবেক খেলোয়াড় প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, এহতেশাম সুলতান, সাজেদ আদেল, তারিকুজ্জামান নান্নু। বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) সভাপতি মোস্তফা মামুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বর্তমান দলের পক্ষে অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি ও কোচ মাহবুব হারুন দেশবাসীর প্রত্যাশা মাথায় নিয়ে ভাল খেলার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

Read More...

ক্রীড়ালেখক সমিতির সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের ইন্তেকাল

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম আর নেই। আজ সকালে তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪১ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। বছর খানেক আগে গল ব্লাডার অপারেশনের সময় তার শরীরে ক্যান্সারের জীবানু ধরা পড়ে। এরপর থেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করায় তাকে ধানমন্ডি পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় তিনি মারা যান।

মারা যাবার আগে জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকিং পেশায় যোগ দেবার আগে তিনি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করতেন। পেশা বদলের পরও লেখালেখি অব্যাহত ছিল তার। ক্রীড়াজগৎ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। এছাড়াও খেলা ও সাহিত্য বিষয়ক বেশ কয়েকটি বই আছে তার।

বাদ মাগবির দক্ষিণ মুগদা মাদ্রাসা মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে মুগদা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

তার অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন গভীর শোক প্রকাশ করছে। জাহাঙ্গীর আলমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছে বিএসপিএ।

 

 

ম্যাক্স-বিএসপিএ নাইট : বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিম

জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ম্যাক্স-বিএসপিএ নাইট। দেশের প্রবীন ক্রীড়ালেখক ও সাংবাদিকদের সম্মাননা জানানো ও ক্রীড়া সাংবাদিকদের বছরের সেরা কাজের স্বীকৃতি জানানোর দ্বিতীয় আসর বসেছিল শনিবার সন্ধ্যায়। ফারস হোটেলের সিন্দুরপুর হলে নবীন-প্রবীন ক্রীড়া সাংবাদিক-লেখকদের স্বীকৃতির রাতে ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের চেনা মুখ সাবেক-বর্তমান খেলোয়াড়, সংগঠক, কর্মকর্তারা।

এবার পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ক্রীড়া সাংবাদিকদের পুরষ্কৃত করা হয়। ২০১৬ সালে তাদের কাজের পুরস্কার দেয়া হয়। সাক্ষাৎকার ক্যাটাগরিতে আতাউল হক মল্লিক ট্রফি জিতেছেন নোমান মোহাম্মদ। রানারআপ হয়েছেন সঞ্জয় সাহা পিয়াল ও মাসুদ আলম। সেরা সিরিজ রিপোর্টের জন্য আব্দুল হামিদ ট্রফি পেয়েছেন মাসুদ আলম । রানারআপ হয়েছেন বদিউজ্জামান ও রাহেনুর ইসলাম। এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট তৈরি করে বদি-উজ-জামান ট্রফি জিতে নিয়েছেন রিয়াসাদ আজিম। রানারআপ হয়েছেন ফয়সাল তিতুমীর ও রাশেদুল ইসলাম। সেরা ফিচার/ডকুমেন্টারি ক্যাটাগরিতে রণজিৎ বিশ্বাস ট্রফি পেয়েছেন ইভান আকরাম। রানারআপ হয়েছেন এস এম আশরাফ ও ফয়সাল তিতুমীর।
চার ক্যাটাগরির পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বর্ষসেরা ক্রীড়া সাংবাদিকের পুরষ্কার তওফিজ আজিজ খান ট্রফি পেয়েছেন রিয়াসাদ আজিম। ট্রফি ছাড়াও তিনি পেয়েছেন পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রাইজমানি। রানারআপ হয়েছেন নোমান মোহাম্মদ ও মাসুদ আলম। তারাও ট্রফি ও পঁচিশ হাজার টাকা করে প্রাইজমানি জিতে নিয়েছেন।

একই অনুষ্ঠানে সিনিয়র তিন ক্রীড়ালেখক ওবায়দুল হক খান, এসবি চৌধুরী শিশির ও তোহাবিন হককে সম্মাননা জানিয়েছে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে এমন সম্মাননা জানিয়ে আসছে সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি জনাব নাজমুল হাসান পাপন এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার জনাব গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর।

জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের সুরে মূচ্ছর্ণায় শেষ হয় অনেকদিন মনে রাখার মত একটি রাতের।

কল্যাণ তহবিলের চতুর্দশ বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি কল্যাণ তহবিলের বার্ষিক সাধারণ সভা শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের তিন তলার সভাকক্ষে চতুর্দশ সাধারণ সভায়সভাপতিত্ব করেন কল্যাণ তহবিলের চেয়ারম্যান সেলিম নজরুল হক। সচিবের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন দেওয়ান আফসার আহমেদ। কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট পেশ করেন রফিকুল ইসলাম মিঞা।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সভাপতি মোস্তফা মামুন ও সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান উজ জামান।

আবাসন প্রকল্পের সম্ভাব্যতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সাবেক সভাপতি হাসানউল্লাহ খান রানা। এরপর সবার মতামতের ভিত্তিতে,সর্বসম্মতিক্রমে আবাসনের জন্য জায়গা কেনার উদ্যোগ নেয়ার ব্যপারে সিদ্ধান্ত হয়। কেরানীগঞ্জে জায়গা কেনার উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় নির্বাহি কমিটিকে।

একই আয়োজনে কেক কেটে কল্যাণ তহবিলের চতুর্দশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

 

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উদযাপিত

আজ ২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এই দিবসটি উদযাপিত হয়। আন্তর্জা তিক ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থার (এআইপিএস) অনুমোদিত সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি বিএসপিএ তার কার্যালয়ে কেক কাটার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে। বিএসপিএ-এর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান উজ জামান রাজিবের নেতৃত্বে সমিতির প্রবীণ ও নবীন সদস্যদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে একযোগে উদযাপিত হয় দিবসটি।
 
অনুষ্ঠানে সমিতির সদ্যদের মধ্যে সমিতির সহ-সভাপতি কাজী শহীদুল আলম, অর্থ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ, অফিস সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সাইমুম, নির্বাহী কমিটির রফিকুল ইসলাম মিঞা, খায়রুল ইসলাম শাহীন, পারভিন নাছিমা নাহার পুতুল, রাকীবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ সোহেল, সিনিয়র সদস্য সেলিম নজরুল হক, ইউসুফ আলী, সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ, মোফাফখারুল ইসলাম দিলখোশ, নীলা হাসান, মাসুদ আলম, কামরুজ্জামান হিরু,  আরাফাত দাড়িয়া, মোয়াজ্জেম হোসেন রোকন, তানজিম আহমেদ, ইয়াহিয়া মুন্না,  শাহজাহান কবীর, সজল মিত্র রিচার্ড, রায়হান উদ্দিন রাসেলসহ অনেকে।
 
উল্লেখ্য, ১৯২৪ সালের ২ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিক সং¯ ’ ার (এআইপিএস) আত্মপ্রকাশ ঘটে। ওই দিনটিকেই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
 

অভিজ্ঞতায় তুর্কমেনিস্তান… পর্ব-০১

মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন রাসেল : আগামী ১৭ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাদে বসতে যাচ্ছে পঞ্চম এশিয়ান ইনডো গেমস ও মার্শাল আর্ট-২০১৭। এ গেমসের বেশ কয়েকটি ইভেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ। এর আগে দেশ, গেমসের ভেন্যু কতটা প্রস্তুত তা সারা বিশ্বকে জানাতে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানায় তুর্কমেনিস্তান সরকার। যার নাম দেয়া হয়েছিলো ওয়ার্ল্ড প্রেস মিডিয়া ফোরাম। একই সঙ্গে একশ দিনের কাউন্ট ডাউন’র অনুষ্ঠানও করা হয়।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস-এআইপিএস’র অন্তর্ভুক্ত সদস্য প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এই সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ক্রীড়া লেখক সমিতি’র সদস্য হিসেবে ৬ জুন দিবাগত রাতে ফ্লাই দুবাই যোগে রওণা হই আমি ও দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র স্পোর্টস রির্পোটার বদিউজ্জামান মিলন।
কয়েক দিনের প্রস্তুতিতে মনের মাঝে অজানাকে জানার নতুন এক আকাঙ্খা তৈরি হয়। নতুন একটি দেশ ভ্রমণ এবং ঐ দেশের জাতি, জাতীয়তাবোধ এবং সংস্কৃতি নিজ চোখে দেখার অজানা আগ্রহ ভর করে ছিলো নিজের স্বত্তায়।
আগে থেকে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা ছিলো আমার জ্ঞান গর্বে। তুর্কমেনিস্তান, মধ্য এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এর আয়তন প্রায় ৪ লক্ষ ৮৮ বর্গ কিলোমিটার বা ১৮৮ বর্গমাইল। সহজ অর্থে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রায় চারগুন। সবশেষ ২০০৬ সালে হিসেব অনুযায়ী দেশটি জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি এগার লাখের কিছু বেশি।
এর উত্তরে কাজাকিস্তান ও উজবেকিস্তান, পূর্বে উজবেকিস্তান ও আফগানিস্তান। দক্ষিণে আফগানিস্তান ও ইরান এবং কাস্পিয়ান সাগর। এই দেশটির হলো ভৌগলিক অবস্থান। এখানকার অধিকাংশ এলাকা সমতল ও বালুময় মরুভুমি। দক্ষিণে ইরানের সাথে সীমান্তে রয়েছে পর্বতমালা।
রাজধানী আশগাবাদ ও দেশটির অন্যতম বৃহত্তম শহর। অধিকাংশ ইমারত মার্বেল পাথরের তৈরি হওয়ায় একে বলা হয় “দ্য সিটি অব মার্বেল”। তুর্কমেনিস্তানের সরকারি ভাষা তুর্কমেন ও রুশ। প্রায় ৮০% জনগণ তুর্কমেন ভাষাতে কথা বলে। রুশ ভাষাতে কথা বলে প্রায় ৮% মানুষ। এছাড়া এখানে প্রচলিত অন্যান্য ভাষার মধ্যে আছে বেলুচি ও উজবেক।

পুর্বে দেশটি সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিলো। তখন এর নাম ছিলো তুর্কমেন সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। আর ১৯৯২ সালে দেশটিতে চালু হয় নতুন সংবিধান।
বর্তমানে তুর্কমেনিস্তানে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান। কিন্তু সম্প্রতি দেশটি বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যাগ নেয়া হয়েছে। জেনে আমার মতোই অবাক হবেন, তুর্কমেনিস্তান পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে ১৯৯১ সাল থেকে জনগন সরকারের কাছ থেকে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সেবা বিনামূল্যে পাচ্ছে।
এমন মজার সব তথ্য ভাবতে ভাবতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ শেষে অবশেষে আমরা পৌছালাম দুবাই এয়ারপোর্টে। প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশাল এই বিমানবন্দরে পা রেখে রীতিমত হতভম্ব আমি। স্থানীয় সময় রাত একটায় লাখো মানুষের পদচারনায় মুখর পৃথিবীর অন্যতম বড় এবং ব্যস্ততম এয়ারপোর্ট।
১২ ঘণ্টার ট্রানজিট শেষে অবশেষে আমরা উঠলাম আশগাবাদের বিমানে। ফ্লাইটে স্থানীয় আধিবাসি ছাড়াও ছিলো আমাদের মতো মিডিয়া ফোরামে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের ৮২ জন সাংবাদিক।

২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের ভ্রমণ শেখে আশগাবাদ বিমানবন্দরে নামার পর থেকে শুরু আমাদের মুগ্ধতার পালা। আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরটি সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধায় সয়ং সম্পুর্ন। প্রতিটি পদক্ষপে দেখতে পেলাম ইনডোর এশিয়ান গেমস আয়োজনের প্রমাণ চিত্র।
আয়োজকদের সহযোগীতায় ইমিগ্রেশনের ঝামেলা শেষ করে বিলাস বহুল এসি বাসে করে শুরু হয় আমাদের আশগাবাদ যাত্রা। প্রতি মুহুর্তে মুগ্ধতার ছোঁয়া। বাইরে থেকে বিমানবন্দরটিকে দেখে মনে হচ্ছেছিলো দুই পাখা মেলে এখনোই উড়াল দেবে ঈগল। সামনে যে আরো মুগ্ধতা অপেক্ষা করছে তা বুঝতে বাকি থাকে না।

বিমানবন্দর থেকে হোটেল ১৫ থেকে ২০ মিনিটের পথ। পথের দুই পাশে মার্বেল পাথরে উঁচু উঁচু ভবনগুলো দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হয়ে। প্রতিটি ভবনের উপরে একটি ছোট মিনার। তার উপরে তুর্কমেনিস্তানের জাতীয় পতাকা জানান দিচ্ছে নিজের স্বাধীনতার। এ দেখে বুঝতে বাকি রইলো না আগামী সাতটা দিন কাটবে এমন নতুন নতুন চমকে।
পাঁচ তারকা হোটেল রুমে খানিক বিশ্রামের পর ইফতারের জন্য চলে যাই ডাইনিংয়ে। ইফতার ও ডিনার শেষে রাতের আশাগাবাদ দেখার নেশায় পা বাড়াই ডাইনিংয়ের বিশাল করিডোরে। এরপর অবাক, মুগ্ধতা ও অদ্ভুত ভালো লাগার মিশ্রন এক অনুভুতি ভর করে আমার ক্লান্ত শরীর ও মনে। সাথে সাথে নিজের মনের ভাবনায় খেলে যায় আগামী সাতটা দিন হতে যাচ্ছো আমার জীবনের সেরা সাতদিন।
চলবে…

লেখক : মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন রাসেল
স্টাফ রির্পোটার (স্পোর্টস)
এসএটিভি
Mail: rayhanrasel@gmail.com

স্মরণে ক্রীড়াপ্রেমী মোহাম্মদ সেলিম

বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির (বিএসপিএ) প্রবীণ সদস্য ও সাবেক সরকারী আমলা মোহাম্মদ সেলিমকে স্মরণ করলেন তার সতীর্থ, বন্ধু ও অনুজরা। বুধবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অবস্থিত মহানগরী ফুটবল লিগ কমিটি অফিসে স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সভাপতি জনাব মোস্তফা মামুন। বক্তব্য রাখেন প্রবীন ক্রীড়া সাংবাদিক কামরুজ্জামান, ইকরামউজ্জমান, বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল তৌহিদ, দুলাল মাহমুদ ও হাসানউল্লাহ খান রানা। এছাড়াও তার সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন কবি সানাউল হক খান, বিমান ভট্টাচার্য, শেখ সাইফুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জনাম সাইদুর রহমান শামীম।

সবার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে তার ক্রীড়াপ্রেম, সমিতির প্রতি অনুরাগ, সততা ও নীতিনিষ্ঠার কথা। বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ সেলিম গত ৬ এপ্রিল মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেছেন।
তার স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় ও তার রুহের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দোয়া করা হয়।

তারিখ: ২৬-০৪-২০১৭

Photo Gallery

Glorious Moment

More Photos